সৌদি আরবে গত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২২.৮৫% !

রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব থেকে গত পাঁচ মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ২৯ কোটি মার্কিন ডলার।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তার মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দর পড়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। ফলে সেখানে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ ও আয় কমে গেছে। মূলত রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার এটাই কারণ।

কিন্তু প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। গত বছর চালু হওয়া নারী শ্রমিকদের পাশাপাশি নতুন করে পুরুষ জনশক্তি রপ্তানির পরও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অর্জন দূরে থাক দেখা দিয়েছে ঘাটতি!

এ বিষয়ে ঢাকাটাইমস গত বছর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে হুন্ডি কারবারিদের নতুন কৌশল, কীভাবে তারা অনলাইন বিকাশের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠায়, তার ফাঁকফোকর তুলে ধরে রেমিট্যান্স হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের লেনদেনের দীর্ঘসূত্রতা, সামান্য ভুলে গ্রাহক হয়রানির কথাও বলা হয়। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্বর্ণ চোরাচালানিদের চোরাচালানে নতুন কৌশল।

নতুন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশিদের পরিচালিত বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি জড়িয়ে পড়েছে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে। দেশে ছুটিতে যাওয়া বাংলাদেশি যাত্রীদের মাধ্যমে যতটুকু স্বর্ণ বৈধ পন্থায় নেওয়া যায় ততটুকু স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশ থেকে তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিনিময়ে যাত্রীরা পাচ্ছেন পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা। একাধিক যাত্রীর মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার করে বিমানবন্দরগুলো থেকেই তা সংগ্রহ করছেন চোরাচালানে জড়িত এজেন্টরা।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে খোলা শ্রমবাজারের ভিসা ক্রয়-বিক্রয় রেমিট্যান্স ঘাটতির একটি কারণ বলেও মনে করেন অনেকে। সৌদি আরব ছাড়াও মধ্যপ্রচ্যোর অন্যান্য দেশের রেমিট্যান্স পাঠানোর ঘাটতির চিত্রও প্রায় একই ।

এরই প্রমাণ মেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে। তাতে দেখা যায়, চলতি (২০১৬-১৭) অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর প্রান্তিকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৪২৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছর একই সময়ে যা ছিল ৫০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে মাত্র চার মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, বা ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।